স্ম র ণ / পৌরপিতা আলী আহাম্মদ চুনকার ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী শ্রদ্ধার সাথে স্মরন
নারায়ণগঞ্জের খবর প্রতিবেদকঃ মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ভাষাসৈনিক ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর ঘনিষ্ঠ সহচর প্রয়াত পৌরপিতা আলী আহাম্মদ চুনকার ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকীতে নানা কর্মসূচী পালন করা হয়েছে।

বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি সকালে মাসদাইর পৌর কবস্থানে তার সমাধিস্থলে পুস্পস্তবক অর্পন করে ফাতেহা পাঠ করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
কবর জিয়ারত ও দোয়া শেষে আলী আহাম্মদ চুনকার বাসভবন খানকায়ে দারুল ইস্কে মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া কাদেরিয়া তৈয়্যবিয়া তাহেরিয়া মাদরাসা, হোসাইনিয়া মমতাজিয়া চুনকা সুন্নিয়া মাদরাসা ও বঙ্গসাথী ক্লাবে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয় ।
১৯৩৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে আলী আহাম্মদ চুনকার জন্ম। তাঁর পিতা ওয়াহেদ আলী ও মাতা গোলেনুর বেগম। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন–সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ভেঙে পড়া নেতা-কর্মীদের সংগঠিত ও উজ্জীবিত করার কাজ করেন চুনকা। এ সময় তাঁকে দীর্ঘদিন গৃহবন্দি রাখা হয়। স্থানীয় সেনা ক্যাম্প ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে জিজ্ঞাসাবাদ এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হন তিনি।
১৯৭৮ সালে আলী আহাম্মদ চুনকা নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীনতার পর নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৭৯ সালে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নে সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। সবার কাছে তিনি ‘চুনকা ভাই’ নামে পরিচিত ছিলেন। এই নামেই তিনি জননেতা হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। দীর্ঘ কর্মময় জীবনে বিরামহীন পরিশ্রম তাঁকে কিংবদন্তিতুল্য জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
তাঁর তিন কন্যার মধ্যে বড়জন ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হন। দুই পুত্রের মধ্যে বড় ছেলে প্রয়াত আহাম্মদ আলী রেজা রিপন এবং ছোট ছেলে আহাম্মদ আলী রেজা উজ্জ্বল।
২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করে। পরবর্তীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলাসহ পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন তিনি।#



