কিশোর গ্যাংয়ের তান্ডব / মাদক অপরাধের প্রতিবাদ করায় যুবককে কুপিয়ে জখম টাকা মোবাইল ছিনতাই
নারায়ণগঞ্জের খবর প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া নামাপাড়া এলাকায় কিশোর গ্যাং গঠন, মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপকর্মের প্রতিবাদ করায় হাসিবুর রহমান জিহাদ (২৭) নামের এক যুবককে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করেছে স্থানীয় একদল সন্ত্রাসী।

গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১:০০ ঘটিকার সময় পাইকপাড়া নামাপাড়া খানকা সংলগ্ন সরকারি রাস্তায় এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত হাসিবুর রহমান জিহাদ পাইকপাড়া নামাপাড়া এলাকার আসাদ মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট অফিসে হিসাব রক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন:
১. হামিম (২৭), পিতা- রনি
২. রিতিক (২৮), পিতা- মৃত আক্তার হোসেন
৩. হামজা (২৭), পিতা- হেলাল
৪. অনন্ত (২৬), পিতা- বিজন (মাতা- সোনালী)
৫. সিয়াম (২৪), পিতা- মিলন
৬. পিচ্ছি সিয়াম (২২), পিতা- মনির
৭. কাবা (২১), পিতা- জুম্মান
৮. আকাশ (৩০), পিতা- অজ্ঞাত।
অভিযুক্ত সকলেই নারায়ণগঞ্জ সদর থানাধীন শাহসুজা রোড ও পাইকপাড়া নামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদীগণ দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় কিশোর গ্যাং গঠন করে প্রভাব বিস্তার, মাদক বিক্রয়, চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো নানা অপকর্ম করে আসছিল। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ভুক্তভোগী হাসিবুর রহমান জিহাদ এই অপকর্মগুলোর প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তরা তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল।
ঘটনার দিন রাতে হাসিবুর রহমান জিহাদ অফিসিয়াল কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে পাইকপাড়া নামাপাড়া খানকা সংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা বিবাদীগণ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার গতিপথ রোধ করে এবং এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে।

একপর্যায়ে ১নং আসামি হামিম হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো চাইনিজ কুড়াল দিয়ে জিহাদের মাথায় কোপ দেয়। জিহাদ হাত দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে চাইনিজ কুড়ালের আঘাতে তার বাম হাতের বাহুতে গভীর ও গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। এরপর ২নং আসামি রিতিক ধারালো ছুরি দিয়ে তার বাম বাহুতে এবং ৩নং আসামি হামজা সুইচ গিয়ার ছুরি দিয়ে তার বাম হাতের তালুর উল্টোপাশে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে। ৪নং আসামি অনন্ত ধারালো ছুরি দিয়ে তার ডান পায়ের রানে কোপ দিয়ে গুরুতর জখম করে।
পরবর্তীতে ৫ থেকে ৯ নং আসামিরা লোহার রড, স্টিলের পাইপ ও কাঠের লাঠি দিয়ে জিহাদের পিঠ, পা ও মাথায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। মারধরের এক পর্যায়ে ১নং আসামি হামিম ভুক্তভোগীর প্যান্টের পকেট থেকে ব্রডব্যান্ড প্রতিষ্ঠানের হিসাবের নগদ ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার) টাকা এবং তার ব্যবহৃত প্রায় ২০,০০০/- টাকা মূল্যের একটি ‘Redmi Note 12’ মডেলের মোবাইল ফোন (সিম নম্বর: ০১৩০৮৯৮২১২৬) ছিনিয়ে নেয়।
যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগীকে এই বিষয়ে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে যায়।
হামলার পর স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় জিহাদকে উদ্ধার করে প্রথমে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) রেফার করেন। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় ট্রমাটোলজি এবং অর্থোপেডিক পুনর্বাসন ইনস্টিটিউটে (পঙ্গু হাসপাতাল) নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। #



