ক্ষমতার অপব্যাবহার / মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ
বন্দর প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

তার দাবীকৃত মোটা অঙ্কের টাকা না দিলেই মাদক ব্যবসায়ী বানানোর ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চিহ্নিত মাদক স্পটগুলো ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলামের নখদর্পণে। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার শীর্ষ মাদক সম্রাট ‘ব্লাক জনি’সহ একাধিক মাদক কারবারির সঙ্গে তার দহরম-মহরম সম্পর্ক। এসব স্পট থেকে প্রতি মাসে নিয়মিত ‘মাসোহারা’ (মোটা অঙ্কের টাকা) নিয়ে থাকেন তিনি। মাসোহারা নিশ্চিত থাকলে মাদক কারবারিরা নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যায়, আর টাকা না দিলেই শুরু হয় পুলিশের ‘তৎপরতা’।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায়ই গভীর রাতে মাদক অভিযানের নামে মদনগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনকে ধরে এনে ফাঁড়িতে আটকে রাখে। এরপর চলে প্রকাশ্য দেন-দরবার। ইনচার্জ নুরুল ইসলামের দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করতে পারলে রাতের অন্ধকারেই আসামিরা ছাড়া পেয়ে যায়। এমন ঘটনা এখন ওই ফাঁড়িতে নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে বিপত্তি ঘটে যারা টাকা দিতে পারেন না তাদের ক্ষেত্রে। দাবীকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হলে নিরিহ মানুষদের ওপরে অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসচ্ছে । এ ছাড়াও দাবিকৃত টাকা না পেয়ে এক মাদক ব্যবসায়ী মামলায় আরেক জনকে পলাতক আসামী করে নানা ভাবে হয়রানি করে আসছে। পরবর্তীতে তাদের সাজানো মাদক মামলা অথবা কোনো উপায় না থাকলে পেনাল কোডের ৩৪ বা ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান করে দেওয়া হয়। পুলিশের এমন বেপরোয়া বাণিজ্যে এলাকার সাধারণ মানুষের মনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সচেতন মহলের বক্তব্য
মদনগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জের এমন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সুশীল সমাজের একজন প্রতিনিধি ও স্থানীয় এক মানবাধিকার কর্মী জানান, “টাকা না পেয়ে আসামিদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন করা এবং পরবর্তীতে ৩৪ বা ৫৪ ধারায় চালান করে দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উচিত অনতিবিলম্বে ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা এবং তাকে আইনের আওতায় আনা।”
এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য মদনগঞ্জ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলামের সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এবং পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে অতি দ্রুত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।#



