নারায়ণগঞ্জ  শুক্রবার | ৯ই জানুয়ারি, ২০২৬ | ২৫শে পৌষ, ১৪৩২ শীতকাল | ১৯শে রজব, ১৪৪৭

শিরোনাম
  |   আড়াইহাজারে আগুনে পুড়ে গেল ৩ কৃষকের ৬ বিঘা জমির আখ    |   সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি বন্ধ    |   বন্দরে দেশ গড়ার পরিকল্পনা শীর্ষক প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত   |   ১৭ মাসে সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথ দুর্ঘটনায় ১৩ হাজার ৪০৯ জন নিহত   |   বন্দর প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও দোয়া   |   বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র মাদক সহ ফাইটার মনিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ   |   খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় সোহেল ও বন্ধু মহলের মিলাদ দোয়া   |   হাদির হত্যা: বিচারের পথে অগ্রগতি, না কি সময়ক্ষেপণের নতুন কৌশল ?    |   কেন্দ্রীয় জাসাস নেতা সানি হাসপাতালে আরোগ্য কামনায় দোয়া চাইলেন পরিবার    |   খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় মহানগর বিএনপির দোয়া   |   বেগম খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় মাসুদুজ্জামানের উদ্যেগে দোয়া   |   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে ৪০ জন প্রার্থী বৈধ ঘোষণা    |   খালেদা জিয়ার শান্তি কামনায় চাঁন মিয়ার দোয়া মাহফিলে চরম হট্টগোল    |   খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় না’গঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের দোয়া   |   নারায়ণগঞ্জে ৫ টি আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে বৈধ ৩৬ প্রার্থী বাতিল ১৬   |   খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল   |   নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের ৫ম তলায় ইন্টেরিয়র উন্নয়নের শুভ উদ্বোধন   |   খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের উদ্যোগে দোয়া   |   নাগবাড়িতে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা   |   নারায়ণগঞ্জ আড়াইহাজার – ২ আসনে ১০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা
 প্রচ্ছদ   কলাম   রাত্রির হীম শীতল ভোর……… ম.মানিক
রাত্রির হীম শীতল ভোর……… ম.মানিক
  কলাম || নারায়ণগঞ্জেরখবর.কম
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

ম.মানিকঃ  রাত্রি শেষ প্রহর । হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে যায় । মোবাইলে সময় দেখি , রাত প্রায় সাড়ে তিনটা । ইদানিং যখন তখন ঘুমিয়ে পড়ি , তারপর শেষ রাতের দিকে প্রায়ই ঘুম ভেঙ্গে জেগে উঠি । মনে হয় বয়স হয়েছে , এটাই শরীর জানান দিচ্ছে । লেখালেখিটা সাধারণত মোবাইলে লিখতেই আমি অভ্যস্ত হয়ে গেছি । প্রায়ই মোবাইল নিয়ে , হাতে একটা বই নিয়ে পড়ার ঘরের বিছানায় গিয়ে বসি , কিছুটা সময় পড়বো বা রাত জেগে লিখবো , এমন ভাবনা নিয়ে । কিসের লেখা ! কিসের পড়া ! রাজ্যের যতো ঘুম এসে দুচোখে ভর করে । কখন ঘুমিয়ে পড়ি টের পাইনা । মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে , খালি গা , শরীরটা কেমন ঠাণ্ডা হয়ে গেছে । খালি গায়ে ঘুমানোর অভ্যাস আমার । খুব ঠাণ্ডার মধ্যেও কখনও কখনও কম্বলের নিচ থেক বাইরে চলে আসি । হাতের সামনে একটা কম্বল ঠিকই থাকে । কিন্তু অলস আমি , শীতে যবুথবু হয়ে কুকড়ে থাকি , তবুও কম্বলটা কখনো নিজ হাতে খুলে গায়ে দেইনা । অয়ন্তর আম্মুর অপেক্ষায় থাকি , ও এসে কখন কম্বলটা গায়ে জড়িয়ে দেবে । ঘুমের ঘোরে প্রায়ই টের পাই , ঝর্ণা গায়ে লেগে থাকা রক্ত

চুষে টসটসে মশা মারছে , কম্বলটা গায়ে জড়িয়ে দিচ্ছে । আজ হয়তো ঝর্ণা খেয়াল করেনি , তাই ঠাণ্ডায় কুকড়ে আছি । ঠাণ্ডার প্রকোপ ও তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ার কারণেই এই শেষ রাতে এসে ঘুমটা ভেঙ্গে যায় । হাতমুখ ধুয়ে একটু ফ্রেস হয়ে ফ্যানটা বন্ধ করে বিছানায় চোখবুজে চুপচাপ ঘাপটি মেরে পড়ে থাকি । রাজ্যের কতশত ভাবনা মনের ভেতর উঁকি মারতে থাকে । ভাবতে থাকি , কিছু কি লিখতে বসবো , না আবার ঘুমিয়ে পড়বো । হঠাৎ ডান কানের ভেতরটা কেমন পিলপিল করতে থাকে , চুলকাতে থাকে । মনে হচ্ছে কানের ভেতর কিছু একটা নড়াচড়া করছে । কান চুলকানো একটা বাজে অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে । তাই ম্যাচের কাঠি , মাথার ছোট ক্লিপ হাতের কাছেই রাখি , যেন প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারি । কানের ভেতর নড়াচড়া , চুলকানি দ্রুত বাড়তে থাকে । বেশী চুলকালে এমনটা মনে হয় যে কানের ভেতর কিছু একটা নড়ছে । তবে কাঠি দিয়ে একটু চুলকালে বা ক্লিপ দিয়ে কানের ময়লা পরিষ্কার করলেই সব ঠিক হয়ে যায় । একটা শক্ত ম্যাচের কাঠি দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ কানের ভেতরটা চুলকানোর পরও চুলকানি বা ভেতরের নড়াচড়া কিছুই কমছে না । আমি বেশ চিন্তায় পড়ে যাই , সত্যি সত্যি কানের ভেতর কিছু একটা নড়ছে কী ! না এটা আমার মনের ভুল । চোখবুজে এসব ভাবতে লাগলাম । খুব অসস্তি হতে লাগলো ।
হঠাৎ মনে হলো একটা কিছু কানের ভেতর থেকে বাইরে বেড়িয়ে ঠেলে বেড়িয়ে আসার জন্যে জোরে ধাক্কা দিচ্ছে এবং আমার কানের পরিধি ধীরে ধীরে বড় হয়ে যাচ্ছে । আমি ভীষণ ভয় পেতে লাগলাম । আমার শরীর শিড়শিড় করে ওঠে । কেমন এক স্নায়বিক বৈকল্যে আমি প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়ি । আমি ভয়ে ভয়ে ডান পাশের কানের উপর হাত রাখলাম । একটা প্রাণীর অস্তিত্ব আমি টের পাই । আমার হাতের স্পর্শে প্রাণীটার নড়াচড়া বুঝতে পারি । আমি ভয়ে শিহরে উঠে ঝটকা মেরে হাত সরাতে চাই , কিন্তু হাত সরাতে পারিনা । হাতটা যেন কানের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে লেগে থাকে । ভয়ে আমার সমস্ত শরীর থরথর কাঁপতে থাকে । আমার ইন্দ্ৰীয় অবশ হয়ে আসে । আমি যেন দেখতে পাচ্ছি , একটা চ্যালা জাতীয় প্রাণী কানের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে আমার হাতের উপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে বেড়িয়ে আসছে । চ্যালার মাথার সামনে দুটি বড় শুঁড় , এর নড়াচড়া , তার অনেকগুলো পায়ের অস্তিত্ব আমি টের পেতে থাকি । মুহূর্তের মধ্যেই আমার শরীরের ভেতর এক অবাক করা অভিনব রূপান্তর ঘটতে থাকে । আমার হাত কান , মুখ , মাথা , শরীর , শরীরের বিভিন্ন অংশ এক মস্ত বড় চ্যালায় রূপান্তরিত হতে থাকে । একসময় আমার দেহ পুরোপুরি রূপান্তরিত হয়ে এক ধূসর কালো রঙের চ্যালায় পরিনত হয় । আমি বিছানায় কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে থাকি ।
আমার আজ বিকালের ঘটনার কথা মনে পড়ে যায় । আমি ওয়াস রুমে বেসিনের কলটা ছেড়ে হাতমুখ ভালো করে ধুয়ে টাওয়ালটা নিতে মাত্র হাত বাড়িয়েছি , অমনি ওয়াস রুমের মেঝেতে চোখ পড়ে আমি আৎকে ওঠি । একটা মস্ত বড় ধূসর কালো রঙের চ্যালা মেঝের এদিক সেদিক দৌড়াচ্ছে । চ্যালা কোনো বিপদজনক প্রাণী না । তবুও এটা দেখামাত্র আমার মধ্যে এক ধরনের ভীতি ছড়িয়ে পড়ে । আমি মুহূর্তে পায়ের স্যান্ডেল হাতে নিয়ে পিটিয়ে ওটাকে আধমরা করে ফেলি । তারপর পা দিয়ে শরীরের সর্বোশক্তি প্রয়োগ করে ওর শরীর , মাথা জোড়ে জোড়ে পিষতে থাকি । আমার পায়ের ঘষায় চ্যালাটা কোমর থেকে দুটুকরো হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় । টুকরো দুটো সমানতালে ছটফট করতে থাকে । আমি এক বন্য আনন্দে ওর মাথাটা পায়ের তলায় পিষতে থাকি । হঠাৎ আমার মনে হতে থাকে , আমার কোমরের উপর বুটজোেতা পরিহিত দুটি শক্তপোক্ত পা পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে । একটা বড় পুলিশ ভ্যানে বোঝাই অসংখ্য মৃতপ্রায় ছাত্রদের নির্জীব ক্ষতবিক্ষত দেহ । আমি সবগুলো দেহের নিচে উপুড় হয়ে পড়ে আছি । অনেকগুলো সশস্ত্র পুলিশ দেহগুলির উপর স্বদর্পে দাঁড়িয়ে আছে । আমার কোমরের উপর একজন দুপায়ে দাঁড়িয়ে আছে । আমি মৃত্যু যন্ত্রণায় ছটফট করছি । পুলিশের বুটের তলায় পিষ্ট হয়ে আমার কোমর থেকে শরীর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যায় । একজন আমার মাথা তার বুটের তলায় পিষতে থাকে । ভ্যানির পুলিশগুলো বুটের তলায় আমাদের
দেহগুলো পিষতে পিষতে এক বন্য আনন্দে , উল্লাসে যেতে ওঠে । এরশাদ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধ ১৯৮৩’র ছাত্র আন্দোলনের রক্তাক্ত গৌরবময় ইতিহাস আমার মস্তিষ্ক আলোড়িত হতে থাকে । আলোড়িত হতে থাকে ছাত্রদের উপর স্বৈরাচারের পাশবিক নির্যাতনের এক কালো অধ্যায় । আমি দেখতে পাই , এই হীম শীতল ভোরে শত পা বিশিষ্ট ধূসর কালো রঙের একটা মস্ত বড় চ্যালার দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে আমার বিছানার উপর পড়ে আছে ।
লেখক —- ম.মানিক
সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কথা সাহিত্যিক।

গাছ লাগান পরিবেশ বাচাঁন, যোগাযোগ ভাই ভাই নার্সারী মোবাইল – ০১৭১২২৫৬৫৯১

এ সম্পর্কিত আরো খবর...