স্মারকলিপি / মাসে ৪০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি ডিসিকে স্মারকলিপি দিল শ্রমিক দল নেতা
নারায়ণগঞ্জের খবর প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ফুটপাত, ঝুট ব্যবসা ও পরিবহন খাত থেকে মাসে প্রায় ৪০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং দিয়ে জমি দখল এবং মাদকের বিস্তার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা ৩ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান হোসেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে এমরান হোসেন উল্লেখ করেন, সমাজে মাদক ও অপরাধ বৃদ্ধির মূল কারণ কিছু সুবিধাবাদী ‘লেবাসধারী সমাজসেবক’। তারাই নেপথ্যে থেকে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছে। একই সঙ্গে তারা কিশোর গ্যাং সদস্যদের ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের জমি দখল, চাঁদাবাজি এবং আবাসন (ডেভেলপার) ব্যবসা পরিচালনা করছে।
স্মারকলিপিতে দলীয় অভ্যন্তরীণ সংকট ও চাঁদাবাজির বিবরণ তুলে ধরে অভিযোগ করা হয়, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ঝুট ব্যবসা, ফুটপাত, পরিবহনসহ বিভিন্ন খাত থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে। এই টাকার ভাগবাটোয়ারা ও আধিপত্যকে কেন্দ্র করে ‘নব্য-বিএনপি’—যারা বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের সাথে সুবিধাভোগী ছিল—তারা স্থানীয় বিএনপিকে তিনটি ধারায় বিভক্ত করে ফেলেছে। তিনটি গ্রুপ এখন প্রকাশ্যে একে অন্যের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় লিপ্ত। এর ফলে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোনো ইতিবাচক অবদান রাখতে পারছেন না।

তৃণমূল কর্মীদের ক্ষোভ প্রকাশ করে স্মারকলিপিতে বলা হয়, “যে টাকার ভাগাভাগির কারণে আজ সাধারণ মানুষের কাছে পুরো দলকেই ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে কলঙ্কিত হতে হচ্ছে, সেই অপতৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।” চাঁদা আদায়ের অর্থ ও শক্তির অপব্যবহার না করে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে বেকার ও মাদকাসক্ত তরুণদের জন্য একটি বিশেষ ‘মাদক নিরাময় কেন্দ্র’ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি; যাতে যুবসমাজ বিপথগামী না হয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের উদ্ধৃতি দিয়ে স্মারকলিপিতে বলা হয়, “‘করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের আলোকে আমরা একটি বৈষম্যহীন ও ইতিবাচক সমাজ বিনির্মাণের অংশীদার হতে চাই।”
স্মারকলিপির শেষাংশে তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকায় চাঁদাবাজি ও মাদক চক্রের লাগাম টানতে, কিশোর গ্যাং দমন করতে এবং এলাকার সুষ্ঠু সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসকের জরুরি ও কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।#



