প্রতিবাদ / অপরিকল্পিত কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ বাতিলের দাবি প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি
নারায়ণগঞ্জের খবর প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর বরফকল এলাকায় অপরিকল্পিত ও জনস্বার্থবিরোধী কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ ও বাতিলের দাবিতে ডিসি অফিস কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা এবং ডিসির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম।

আজ সোমবার বিকালে এ স্মারকলিপি প্রদানের পর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাগরিক অধিকার ফোরামের উত্থাপিত দাবিগুলোর প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “নাগরিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরব এবং আমি নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম ও নারায়ণগঞ্জ নাগরিকদের এসব যৌক্তিক দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করি।”
উক্ত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম
ও সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিগণ।
উক্ত মতবিনিময় সভায় নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতৃবৃন্দরা বলেন, শীতলক্ষ্যা নদী নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ, জনজীবন, নৌ-যোগাযোগ ও অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। নদীর নাব্যতা, স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ, নৌ-চলাচল এবং পরিবেশগত প্রভাব যথাযথভাবে যাচাই না করে কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ করা হলে তা ভবিষ্যতে গুরুতর পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
ফোরামের নেতৃবৃন্দ প্রকল্পটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে—
১. নদীর নাব্যতা ও নৌ-চলাচলে প্রতিবন্ধকতা: প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শীতলক্ষ্যা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, নাব্যতা ও নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২. যানজট ও জনদুর্ভোগ: কনটেইনার পরিবহনে বিপুলসংখ্যক ভারী ট্রাক ও ট্রেইলার চলাচলের ফলে বরফকলসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেতে পারে।

৩. সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা: প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাবিত প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা এবং ব্যয়-সুবিধা বিশ্লেষণ ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হলে রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
৪. বিদ্যমান কনটেইনার টার্মিনালের সক্ষমতা: পানগাঁওসহ বিদ্যমান কনটেইনার টার্মিনালগুলোর সক্ষমতা ও সম্প্রসারণের সুযোগ যাচাই না করে নতুন প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
৫. পরিবেশ ও জনস্বার্থের ক্ষতি: প্রকল্পটির ফলে নদীদূষণ, পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা এবং স্থানীয় জনবসতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
৬. নিরপেক্ষ তদন্ত ও তথ্য প্রকাশ: প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন, অনুমোদিত ব্যয় ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত নথিপত্র জনসমক্ষে প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম মনে করে, উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন; তবে তা হতে হবে পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব, অর্থনৈতিকভাবে যৌক্তিক ও জনস্বার্থসম্মত। উন্নয়নের নামে নদী, পরিবেশ ও নাগরিক জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ফোরামের প্রধান দাবি হলো, শীতলক্ষ্যা নদীর বরফকল এলাকায় প্রস্তাবিত কনটেইনার পোর্ট নির্মাণ প্রকল্পের সব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ ও স্থগিত করে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা, পরিবেশগত প্রভাব এবং অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিরপেক্ষভাবে যাচাইপূর্বক জনস্বার্থবিরোধী এই প্রকল্প সম্পূর্ণ বাতিল করতে হবে।
ফোরামের নেতৃবৃন্দ জানান, নারায়ণগঞ্জের নদী, পরিবেশ ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে। #



