হত্যাকান্ড / ইসলামী যুব আন্দোলন নেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘাতক শেখ সিফাতসহ গ্রেপ্তার-৯
বন্দর প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জ বন্দরে রিক্সার গ্যারেজে লুটপাটের দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার না করার জের ধরে দুর্ধর্ষ সিফাত বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলায় ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বন্দর থানা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও লুটপাটের মামলার বাদী জাহিদ হাসান বুলবুল (৩৮) নিহত হয়েছে।

নিহত জাহিদ হাসান বুলবুল নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশন ২২ নং ওয়ার্ডের বন্দর থানার ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ৯টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ডের বন্দর থানার সালেহনগরস্থ তাহের মিয়ার বাড়ী সামনে এ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা মুমুর্ষ অবস্থায় জাহিদ হাসান বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে। হত্যাকান্ডের ঘটনার ৬ ঘন্টার ব্যবধানে শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোর ৪টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশনের বন্দর থানার ২৩ নং ওয়ার্ডের কদম রসুল কলেজ মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে শীর্ষ সন্ত্রাসী ঘাতক শেখ সিফাতসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ ব্যাপারে নিহত বুলবুলের বড় ভাই জোবাইদ আল আমিন বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায়
উত্তেজিত জনতা শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল ১০টায় ঢাকা টু চট্রগ্রাম মহাসড়কে অবরোধ করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশনের বন্দর থানার ২১ নং ওয়ার্ডের শাহীমসজিদ এলাকার শাহীন ওরফে রিং শাহীনের ছেলে শেখ সিফাত (২৮) একই থানার বারপাড়া এলাকার রবিউল হাসানের ছেলে মাহাবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ (৩২) একই থানার নবীগঞ্জ কদম রসুল ফকির বাড়ী এলাকার আলী আকবর মিয়ার ছেলে জুম্মান ওরফে হোয়াইট জুম্মান (২৯) বন্দর শাহীমসজিদ এলাকার সোবহান মিয়ার ছেলে রিয়াদ (৩৩) একই থানার কদম রসুল মাঠপাড়া এলাকার সুলাইমান মিয়ার ছেলে সিয়াম (২৫) একই থানার বন্দর চিতাশাল এলাকার ইমরান আলীর ছেলে ইফরান (২৯) একই থানার সালেহনগর এলাকার পারভেজ মিয়ার স্ত্রী মিনারা (৩৫) একই এলাকার মাসুদ মিয়ার স্ত্রী নাসিমা বেগম (৩৬) ও একই এলাকার দেলোয়ার হোসেনের স্ত্রী রুমা বেগম (৩৬)।
বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৪ইং সালের গণ-অভ্যুত্থান আন্দোলনে অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী সিফাতের নেতৃত্বে বুলবুলের রিক্সার গ্যারেজে লুটপাট চালানো হয়। এ ঘটনায় সিফাতকে প্রধান আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বুলবুল। মামলা দায়েরের পর থেকেই সেটি প্রত্যাহারের জন্য তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ স্বজনদের।

পরিবারের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে একা পেয়ে সিফাত ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন আবারও মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। ওই সময় বুলবুলের সঙ্গে সিফাতসহ তার সহযোগীদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে বুলবুল হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। হত্যার প্রতিবাদে উত্তেজিত জনতা শাহী মসজিদ এলাকায় সড়কে অগ্নিসংযোগ করে রাস্তা অবরোধ করেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা বিক্ষোভ মিছিল বের করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। ওই সময় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানান, পুলিশ হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। #



