নারায়ণগঞ্জ  মঙ্গলবার | ২৬শে মে, ২০২৬ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ গ্রীষ্মকাল | ৮ই জিলহজ, ১৪৪৭

শিরোনাম
  |   প্রবাসী অপহরণ আদালতের নির্দেশ অমান্য করায় ফতুল্লার ওসিকে শোকজ   |   বক্তাবলীতে ৬ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণ করেছে দুই যুবক আটক ১   |   সোনারগাঁয়ে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক নির্বাচিত আমিনুল ইসলাম   |   ১০ টাকা চাঁদা না দেয়ায় অটো চালককে পিটিয়ে হত্যা   |   শব্দ দূষণ বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান ৪ যানবাহনকে জড়িমানা    |   বন্দরে প্রকাশ্যে ড্রেজার ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ   |   আবাসিক গভীর নলকূপের কর ও রেজিস্ট্রেশন বাতিলের দাবিতে সমাবেশ   |   বসতবাড়ীতে ডাকাতি ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট   |   বাংলাদেশে ঈদুল আজহা ২৮ মে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি   |   কালবৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি নিহত ১ আহত ৫   |   সোনারগাঁয়ে ঠিকাদারকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে হত্যা   |   ১২ মামলায় আইভী’র জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই   |   র‍্যাবের অভিযানে দেশীয় অস্ত্র সহ আটক ৩ মাদকের আস্তানায় আগুন   |   দুই সহোদরকে কুপিয়ে নগদ টাকা স্বর্ণালংকার লুট করেছে ডাকাতদল   |   রূপগঞ্জে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল সহ এক আসামি গ্রেফতার   |   সড়ক দুর্ঘটনায় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন নিহত   |   ব্যবসা দখলে নিতে পরিকল্পিত ভাবে ডিস ব্যবসায়ি নাছিরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা   |   সোনারগাঁয়ে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যু   |   নবীগঞ্জ খেয়াঘাটে টোল আদায়কারীদের হাতে কলেজ ছাত্রী লাঞ্ছিত   |   অবৈধভাবে পরিচালিত দুইটি ইটভাটাকে জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর
 প্রচ্ছদ   সংস্কৃতি   ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়ণ এখন গলার কাঁটা
ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়ণ এখন গলার কাঁটা
  সংস্কৃতি || নারায়ণগঞ্জেরখবর.কম
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২২

দীর্ঘদিন মেরামতের অভাবে করুণ অবস্থায় রয়েছে বরগুনার সবকটি আশ্রয়ণের ঘর সমূহ। এসব ঘরের টিনের চালায় বড়বড় ছিদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে ঘরগুলো। এসব ঘরের বাসিন্দারা বলছেন, ভাঙা আশ্রয়ণ এখন সবার গলার কাঁটা হয়ে আটকে আছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীভাঙনে সর্বস্ব হারানো ও হতদরিদ্র পরিবারগুলোর আবাসনের জন্য ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আবাসন প্রকল্পের অধীনে গৃহনির্মাণ কাজ শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে এ প্রকল্পের নাম দেওয়া হয় আশ্রয়ণ প্রকল্প।বরগুনার তালতলী উপজেলায় ৯টি আশ্রয়ণ প্রকল্প রয়েছে। এর মধ্যে টবগী, নিশানবাড়িয়া ও নলবুনিয়া এলাকার আশ্রয়ণের ঘরগুলো পরিত্যক্ত হওয়ার পরেও সেখানে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন হতদরিদ্র মানুষরা। এসব ব্যারাকের টিনের চালা বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ছিদ্র হয়ে গেছে। চালের টিন চাপা দেয়ার ফ্লাটবারের নিচ থেকে বেশির ভাগ ব্যারক হাউজের টিনগুলো মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে দুই ভাগ হয়ে গেছে। যার ফলে একটু বৃষ্টি হলেই সব পানি ঘরের ভেতরে পড়ে। এছাড়া সেখানে বসবাসকারীদের শিশুদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় তারা বিভিন্ন শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।নলবুনিয়া এলাকার শুভ সন্ধ্যা আশ্রয়নের বাসিন্দা রুনু বেগম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘ঘরে থেকেও আমরা বৃষ্টিতে ভিজি, টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে। আমাদের সামর্থ্য নেই নতুন টিম লাগানোর। যদি আমাদের সামর্থ্য থাকতো, তাহলে আমরা এই ভাঙা আশ্রয়ণে বসবাস করতাম না।’আশ্রয়নের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা জানি না ব্যারাকগুলো মেরামত কোন কর্তৃপক্ষ করবে বা কেউ করবে কি না। আমাদের দুরাবস্থার কথা কেউ শোনে না।’নিশানবাড়িয়া আশ্রয়ণের বাসিন্দা আব্দুস সোবাহান বলেন, ‘সিডর, আইলাসহ একাধিক ঘূর্ণিঝড়ে এসব আবাসন বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা যতটুকু পেরেছি ততটুকু সংস্কার করেছি। আমাদের তো আর নতুন ঘর তোলার সামর্থ্য নেই তাই বারবার এই আশ্রয়ণের ঘর জোড়া তালি দিয়েছি। সরকার যদি কিছু বরাদ্দ দিত তাহলে এতোটা খারাপ অবস্থা ঘরের হতো না। এখন এসব ঘর ভেঙে নতুন করে আশ্রয়ণ করতে হবে। ঘরগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।’অপর বাসিন্দা জামাল, মালেক, জব্বার ও আনোয়ারসহ অনেকে জানান, ‘নানা দুর্যোগসহ দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও ঘরগুলো মেরামত বা সংস্কার না করায় ৮০ ভাগ ছাউনির টিন মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ছিদ্রসহ অনেক স্থানে ছাউনি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। আশ্রয়ণের অধিকাংশ হতদরিদ্র মানুষ মাছ ধরে, শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। নলকূপগুলো অকেজো আজ প্রায় পাঁচ বছর। ল্যাট্রিনগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে গেছে। নামমাত্র রিংস্লাব দিয়ে তৈরি করা ল্যাট্রিন ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে আশ্রয়ণে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।এ প্রকল্পের ব্যরাক হাউজে নিশানবাড়িয়া এলাকায় ৫০টি পরিবারের ১০০ থেকে ২০০ অধিবাসী বাস করলেও এখন মাত্র ৩০টি পরিবার বসবাস করে। কুমড়াখালী আবাসনের একাধিক বাসিন্দারা জানান, শখ করে কেউ আশ্রয়ণে থাকে না। এখানে সবাই গরিব। আমাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। ঘর মেরামত করার টাকা আমাদের নেই। কিন্তু ঘর গুলো নতুন করে নির্মাণ করাও দরকার। পিলারগুলো খসে খসে পড়ছে। টিনের চালা ছিল, সেখানে এখন পলিথিন দিয়ে থাকছি। সত্যি বলতে এই আবাসন এখন আমাদের গলার কাঁটা।’এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ইতোমধ্যেই কয়েকটি আশ্রয়ণ পরিদর্শন করেছি। শীগগিরি তালিকা করে নতুন করে আশ্রায়ণের ঘর নির্মাণে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’আশ্রয়নের বাসিন্দাদের সীমাহীন কষ্টের কথা স্বীকার করে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘আশ্রয়ণের এসব ঘর ছেড়ে অনেকেই চলে গেছেন নতুন করে যদি কেউ এখানের বাসিন্দা হতে চান তাহলে তাদের আশ্রয় দেওয়া হবে।’

গাছ লাগান পরিবেশ বাচাঁন, যোগাযোগ ভাই ভাই নার্সারী মোবাইল – ০১৭১২২৫৬৫৯১

এ সম্পর্কিত আরো খবর...