প্র যু ক্তি টি প স / স্মার্টফোন স্লো? মোবাইল ফোন ফাস্ট করার ৯টি উপায় জানুন
সুমন চন্দ্র দাসঃ স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে দরকারি সঙ্গী। পড়াশোনা, অফিসের কাজ, ব্যবসা, যোগাযোগ, বিনোদন—সবকিছুতেই ফোন লাগে। কিন্তু কিছুদিন ব্যবহার করার পর অনেক সময় দেখা যায় ফোন আগের মতো দ্রুত কাজ করছে না। অ্যাপ খুলতে দেরি হয়, স্ক্রল করতে গেলে আটকে যায়, হঠাৎ থেমে যায়, কিংবা বারবার হ্যাং করে। এই অবস্থায় বিরক্ত হওয়া স্বাভাবিক।

ভালো কথা হলো—ফোন ধীর হয়ে যাওয়ার বেশিরভাগ সমস্যাই কিছু সহজ অভ্যাস ও যত্নের মাধ্যমে কমানো যায়। তাই যারা মোবাইল ফোন ফাস্ট করার উপায় খুঁজছেন, তাদের জন্য নিচে ধাপে ধাপে দেওয়া হলো মোবাইল ফোন দ্রুত করার ৯টি কার্যকর উপায়।
মোবাইল ফোন ফাস্ট করার ৯টি উপায় জানুন
১) নিয়মিত ফোন বন্ধ করে আবার চালু করুন
অনেকেই সপ্তাহের পর সপ্তাহ ফোন একবারও বন্ধ করেন না। ফলে ভেতরে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় কাজগুলো ঠিকমতো বন্ধ হয় না।
ফোনের চালু থাকা স্মৃতি জায়গায় নানা ধরনের সাময়িক তথ্য জমতে থাকে। এতে ধীরে ধীরে ফোনের গতি কমে যায়, কাজ করতে সময় লাগে, মাঝে মাঝে আটকে যায়।
এজন্য কয়েকদিন পর পর একবার ফোন বন্ধ করে আবার চালু করা খুব উপকারী। ফোন বেশি আটকে গেলে কিছুক্ষণ বন্ধ রেখে চালু করলেও উপকার পাওয়া যায়। নিয়মিত এমন করলে ফোনের ভেতরের অযথা চাপ কমে এবং কাজের গতি তুলনামূলক ভালো থাকে।
২) অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ মুছে ফেলুন
আমরা প্রয়োজন হলে অনেক অ্যাপ বসিয়ে রাখি। পরে আর ব্যবহার করি না, কিন্তু অ্যাপগুলো থেকেই যায়।
অনেক অ্যাপ আবার নিজের মতো করে ভেতরে নানা ফাইল জমায় এবং কিছু অ্যাপ পেছনে পেছনে কাজও করে। এতে ফোনের জায়গা কমে, চালু থাকা মেমরি জায়গার ওপর চাপ পড়ে এবং ধীরে ধীরে ফোন ভারী হয়ে যায়।
তাই যে অ্যাপগুলো আপনি নিয়মিত ব্যবহার করেন না, সেগুলো মুছে ফেলুন। বিশেষ করে ভারী অ্যাপ, বড় খেলা, কিংবা এক ধরনের কাজের জন্য একাধিক অ্যাপ থাকলে অপ্রয়োজনীয়গুলো বাদ দিন। ফোন যত হালকা থাকবে, তত স্বচ্ছন্দে চলবে।
৩) কম দরকারি অ্যাপ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখুন
কিছু অ্যাপ আছে যা মাঝে মাঝে দরকার হয়। সব সময় মুছে ফেলতে মন চায় না। কিন্তু এগুলো চালু থাকলে পেছনে পেছনে নানা কাজ চালায়। ফলে ফোন ধীর হয়ে যায়।
এক্ষেত্রে ওই অ্যাপগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করে রাখা ভালো। এতে অ্যাপ ফোনে থাকলেও নিজে থেকে কাজ করবে না।
যখন প্রয়োজন হবে তখন আবার চালু করে ব্যবহার করতে পারবেন। এই অভ্যাস ফোনকে হালকা রাখতে সাহায্য করে।
৪) ফোনের জায়গা খালি রাখুন
ফোনের ভেতরের জায়গা যদি প্রায় ভরে যায়, তাহলে ফোন ধীর হয়ে পড়া খুব স্বাভাবিক। কারণ তখন নতুন তথ্য রাখার মতো জায়গা কম থাকে। ফোন নানা কাজ করতে গিয়ে বারবার আটকে যায়, ছবি তুললে দেরি হয়, অ্যাপ খুলতে বেশি সময় লাগে।
তাই অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও, বড় বড় ফাইল, পুরোনো নথি, এবং বারবার পাঠানো একই ধরনের ফাইল মুছে ফেলুন।
বিশেষ করে যে ভিডিওগুলো আর দেখা হয় না, কিংবা অকারণেই জমে গেছে—সেগুলো সরিয়ে ফেললেই জায়গা অনেকটা খালি হয়। ফোনের জায়গা কিছুটা খালি থাকলে কাজের গতি সাধারণত ভালো থাকে।
৫) জমে থাকা সাময়িক তথ্য পরিষ্কার করুন
অনেক অ্যাপ ব্যবহার করতে করতে ভেতরে সাময়িক তথ্য জমায়। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যম, ভিডিও দেখা, ইন্টারনেট ঘাঁটাঘাঁটি—এসব করলে জমা বেশি হয়। সময়ের সাথে সাথে এই জমা বেড়ে গিয়ে ফোনের জায়গা কমিয়ে দেয় এবং অনেক সময় অ্যাপও ধীর হয়ে যায়।
তাই সেটিংসে গিয়ে অ্যাপগুলোর ভেতরে জমে থাকা সাময়িক তথ্য পরিষ্কার করুন। এতে অ্যাপের ভেতরের অযথা ভার কমে এবং অনেক ক্ষেত্রে ফোনের গতি কিছুটা ফিরে আসে। নিয়মিত কয়েকদিন বা এক-দুই সপ্তাহ পরপর এটি করলে ফল ভালো পাওয়া যায়।
৬) পেছনে চালু থাকা কাজ কমান
ফোনে একসাথে অনেক অ্যাপ খোলা থাকলে, কিংবা কিছু অ্যাপ পেছনে চলতে থাকলে ফোনের শক্তি ও মেমরি জায়গা বেশি ব্যবহার হয়।
তখন অন্য কাজ করতে গেলে ফোন আটকে যায়। অনেকে আবার এক অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে গিয়ে আগেরটা বন্ধ না করেই রেখে দেন। এতে ধীরে ধীরে চাপ বাড়ে।
এজন্য কাজ শেষে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করে দিন। যেগুলো প্রয়োজন নেই, সেগুলো পেছনে চালু রেখে লাভ নেই। এতে ফোনের ওপর চাপ কমবে, ব্যাটারি কম খরচ হবে, এবং সামগ্রিকভাবে ফোন দ্রুত চলবে।
৭) ফোনের অ্যানিমেশন কমিয়ে দিন
ফোনের অ্যানিমেশন নড়াচড়া করে, খুললে যেভাবে হালকা ঘুরে বা ভেসে আসে—এই নড়াচড়া দেখতে ভালো লাগলেও ফোনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে।
নতুন ফোনে খুব সমস্যা না হলেও, মাঝারি বা পুরোনো ফোনে এতে গতি কমে যেতে পারে।
আপনি চাইলে সেটিংসে গিয়ে এই অ্যানিমেশনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারেন। এতে ফোনের চলাফেরা তুলনামূলক দ্রুত মনে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আটকে যাওয়াও কমে। যারা ফোন ধীর মনে করেন, তাদের জন্য এটি বেশ কাজে দেয়।

৮) অযথা লাইভ ওয়ালপেপার ও বেশি উইজেট কমান
অনেকে সৌন্দর্যের জন্য লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করেন বা অনেক উইজেট সাজিয়ে রাখেন। কিন্তু এগুলো ফোনের স্মৃতি জায়গা ও শক্তি বেশি খায়। ফলে ফোনের গতি কমে যেতে পারে, ব্যাটারিও দ্রুত শেষ হয়।
এজন্য সাধারণ স্থির ছবি ব্যবহার করাই ভালো। প্রয়োজন ছাড়া বেশি উইজেট না রাখলে ফোন হালকা থাকে। হোম পর্দা যত কম ভারী হবে, ফোন তত সহজে চলবে।
৯) সব উপায় ব্যর্থ হলে ব্যাকআপ নিয়ে ফ্যাক্টরি রিসেট দিন
উপরের সব কিছু করার পরও যদি ফোন খুব ধীর থাকে, বারবার হ্যাং হয়ে যায়, কিংবা অকারণে আটকে যায়—তাহলে শেষ উপায় হলো ফোনকে ফ্যাক্টরি রিসেট দিন।
এতে ফোনের ভেতরের সবকিছু মুছে গিয়ে ফোন নতুনের মতো অবস্থায় ফিরে আসে। অনেক সময় জমে থাকা সমস্যাগুলো এতে ঠিক হয়ে যায়।
তবে এই কাজ করার আগে অবশ্যই জরুরি ছবি, ভিডিও, যোগাযোগ নম্বর, নথি—সবকিছুর কপি আলাদা করে রেখে দিন। কারণ ফ্যাক্টরি রিসেট দিলে সব মুছে যাবে। কপি রেখে নিশ্চিত হওয়ার পর এই কাজ করলে ঝুঁকি কম থাকে।
উপসংহার
স্মার্টফোন ধীর হয়ে যাওয়া খুব সাধারণ সমস্যা। কিন্তু একটু নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো যায়।
নিয়মিত ফোন বন্ধ করে চালু করা, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ও ফাইল সরানো, জমে থাকা সাময়িক তথ্য পরিষ্কার রাখা, পেছনে চলা কাজ কমানো, এবং অযথা ভারী সাজসজ্জা কমিয়ে আনা—এসবই ফোনকে দ্রুত রাখতে সাহায্য করে।
লেখকঃ- সুমন চন্দ্র দাস



